
যুদ্ধ কেন
ভূমিকা যুদ্ধ কেন! মানবেতিহাসের অন্যতম প্রাচীন প্রশ্ন। যা আজও অনির্বাণ। মানুষ যুগ-যুগান্তর ধরে যুদ্ধ নামক বেদনার উত্তর খুঁজছে কিন্তু সমাধান টানতে পারেনি। কালান্তরে মানুষ সভ্য হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতি ঘটিয়েছে, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে;নিজের বস্তুগত, অবস্তুগত জীবনে পরিবর্তনও এনেছে কিন্তু যুদ্ধের প্রবণতা থেকে মুক্ত হতে সে কখনোই পারেনি। বরঞ্চ শিল্প-বিপ্লব পরবর্তী আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতি মানুষে মানুষে দ্বন্দ্বময় সংঘাতে যুদ্ধকে এমন এক প্রচণ্ড বিধ্বংসী শক্তিতে রূপান্তরিত করেছে, যার সামনে সমগ্র মানবজাতির অস্তিত্বই এক নিমিষে আজ হুমকির মুখে পতিত। মানুষ হয়ে মানুষই একে অপরের ওপর চালিয়ে আসছে শোষণ, নির্যাতন ও পাশবিক অত্যাচার। একদল দখল করেছে আরেক সম্প্রদায়ের সম্পত্তি। ক্ষমতা-সম্পত্তি দখল, বেদখল আর আত্মরক্ষার নিমিত্তে সমাজসত্তায় শ্রেণিগত লড়াই-সংগ্রাম, তাতে যুদ্ধ যেন অনিবার্য প্রতিক্রিয়া। একটা যুদ্ধের ময়দানে শুধু রাষ্ট্রশাসক আর সৈনিকের মৃত্যু ঘটে না; ধ্বংস হয় সাজানো গোছানো জনপদ। বিপর্যস্ত হয় অর্থনীতি, ছিন্নভিন্ন হয় মানুষ আর তার আঁকড়ে ধরা পরিবার। উদ্বাস্তু হয় মানুষ, স্থানান্তরিত হয় পরিবার, পরিজন। দেশান্তরিত হয় স্বজন। আবেগ। দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি হয় মানুষের স্মৃতিভ্রমে। যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জাতি, জ্ঞাতি, গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের ব্যক্তি ও সামষ্টিক স্মৃতিকে তাড়িয়ে বেড়ায়। যুক্ত কেন-এই প্রশ্নের গভীরে প্রবেশ করেছিলেন বিশ শতকের দুই অসাধারণ মনীষী একজন পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন এবং অন্যজন বিখ্যাত মনোবিশ্লেষক সিগমুন্ড ফ্রয়েড। মূলত ১৯৩২ সালে লীগ অব নেশন এর আন্তর্জাতিক বুদ্ধিবৃত্তিক সহযোগিতা সংস্থার উদ্যোগের কল্যাণে আলবার্ট আইনস্টাইন সিগমুন্ড ফ্রয়েডকে একটি চিঠি লেখেন। তাঁর উত্থাপিত প্রশ্ন ছিল সহজ-সরল কিন্তু গভীর। সভ্যতায় মানুষকে যুদ্ধের উন্মত্ততা থেকে মুক্ত করার আদৌ প্রকৃত কোনো উপায় কী আছে? মানুষ কী মানুষের প্রয়োজনে এমন কোনো ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে বা গড়ে তোলা সম্ভব? যার মাধ্যমে জাতি, বর্ণ, রাষ্ট্রে মানুষে মানুষে এই প্রাচীন প্রশ্ন তথা যুদ্ধ নামক সংঘাতের চিরস্থায়ী নিষ্পত্তি করা যায়। যেখানে শক্তি ও সহিংসতার পরিবর্তে নিরপেক্ষ, নির্দলীয়, নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী বিচারালয় প্রতিষ্ঠা করে আইন, যুক্তি, সংস্কৃতি,সংহতি ও ন্যায়ের ভিত্তিতে এ যুদ্ধ নিরসণ সম্ভব। আলবার্ট আইনস্টাইনের প্রশ্নের জবাবে সিগমুন্ড ফ্রয়েড যুদ্ধকে কেবল রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখেননি; তিনি এর সঙ্গে মানুষের মনস্তত্ত্ব, আগ্রাসন, সম্পত্তি, ধ্বংসপ্রবণতা এবং শাসকদের রাষ্ট্র ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষার সম্পর্কে সমাজ বিশ্লেষক অনুসন্ধান করেছেন। আলবার্ট আইনস্টাইনের বিশ্লেষণে মানুষের মধ্যে যেমন জীবন ও সৃষ্টির এক ধরনের প্রবৃত্তি রয়েছে, তেমনি রয়েছে ধ্বংস ও আগ্রাসনের প্রবণতাও। ফলে যুদ্ধকে কেবলমাত্র আমরা রাষ্ট্রের নীতি বা শাসকবর্গের সিদ্ধান্ত, ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রবণতা, শোষণ-শাসন করার মনোভাব দিয়ে ব্যাখ্যা করলে সামাজিক মানুষের গভীর মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতা অনালোচিত থেকে যায়। এমনটাই তিনি বলেছেন। আইনস্টাইন তাঁর পত্রে আরও বলতে চেয়েছেন যে- যুদ্ধ কখনোই শুধুমাত্র সমাজ,রাষ্ট্রে বসবাসকৃত মানুষের অন্তর্গত প্রবৃত্তির স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ নয়। রাষ্ট্র, ক্ষমতা, শ্রেণিদ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক স্বার্থ, রাজনৈতিক আধিপত্য, জাতীয়তাবাদ, গণমাধ্যম, সম্পদ ও ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ এসবও যুদ্ধের উৎপাদন, সম্মতি উৎপাদন ও বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষত আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সাধারণ মানুষ অনেক সময় শাসকদের এমন যুদ্ধের বোঝা বহন করে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের কোনোরকম প্রত্যক্ষ-পরোক্ষা ভূমিকা থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রচার মাধ্যমগুলোতে প্রচারিত বার্তায় তারাও উদ্বুদ্ধ হয়ে অবচেতনভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ক্ষতি সাধন শাসকের চেয়ে জনসাধারণের সবচেয়ে বেশি হয়। যুদ্ধবাজ শাসক আর যুদ্ধরত সৈনিক সেখানে কার্যত একই। আলবার্ট আইনস্টাইন ও সিগমুন্ড ফ্রয়েডের এই ঐতিহাসিক সংলাপ কেবলই যুদ্ধবিরোধী দলিল নয়; এটি মানুষের সভ্যতা, রাষ্ট্র, আইন, ক্ষমতা, নৈতিকতা ও মনস্তত্ত্ব নিয়ে একটি গভীর বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধানের প্রয়াস। যে প্রশ্নটি আজও সমান প্রাসঙ্গিক। মানুষ যদি তার চিন্তা, চেতনার যুক্তিবোধে সংস্কৃতি ও সভ্যতায় এত দূর পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে, অসম্ভবকে জয় করতে পারে তাহলে, তবে কেন সে এখনো মানুষে মানুষে সংগঠিত হত্যাযজ্ঞকে যুদ্ধের নামে বৈধতা দেয়? কেন আজও সংখ্যাগরিষ্ঠ গণ-মানুষ যুদ্ধের ক্ষতি ভোগ করে। কেন-ই বা যুদ্ধের সিদ্ধান্ত ঠেকাতে পারে না? তাই কীভাবে এমন একটি বিশ্বব্যবস্থা নির্মাণ করা সম্ভব, যেখানে বিরোধের সমাধান হবে ন্যায় ও আইনের মাধ্যমে, অস্ত্রের মাধ্যমে নয়। আজকের প্রাচ্য, পাশ্চাত্য, আফ্রিকার দেশগুলোতে অস্ত্রের ঝনঝনানি, পারমাণবিক অস্ত্র, গণবিধ্বংসী প্রযুক্তি এবং বহুমাত্রিক আঞ্চলিক, ভূরাজনৈতিক বৈচিত্র্যময় যুগে এই প্রশ্ন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। তাই যুদ্ধ কেন- বইটির অনুবাদ কেবলই আলবার্ট আইনস্টাইন ও সিগমুন্ড ফ্রয়েডের লেখা অতীত কালের একটি চিঠির সংকলিত অনুবাদ নয়; এটি বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় আমাদের মানবসভ্যতার প্রতি একটি নিরপেক্ষ, নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আহ্বান। যা মানুষকে ও মানুষের সভ্যতাকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাবে। অনুবাদ কাজটি কঠিন হলেও আমি বিশ্বাস করি আমার দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল অনূদিত এই বই আলবার্ট আইনস্টাইন ও সিগমুন্ড ফ্রয়েডের মধ্যে আলাপচারিত বিচিত্র ভাবনার একটি দরজা বাংলা ভাষার পাঠকের সামনে উন্মুক্ত করে দিবে। বইটি অনুবাদে যথেষ্ট অর্থব্যক্তি ও প্রাঞ্জলতা বজায় রেখেছি। মূল লেখা তথা ইংরেজি দীর্ঘ ও জটিল বাক্যগুলোকে বাংলা ভাষায় সহজ-সরল, পরিচিত শব্দের সমাবেশে ছোট ছোট বাক্যে রচনা করেছি। যেন সুখপাঠ্য হয়। পাঠক পড়তে গিয়ে দুর্বোধ্যতার শিকার না হোন। পাঠক যা পড়েন; তা যেন পড়ামাত্র বুঝতে পারেন। মনির হোসেন শিক্ষক বাংলা বিভাগ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
সর্বমোট প্রদেয় মূল্য (ক্যাশ অন ডেলিভারি প্রযোজ্য)
বইয়ের ফ্ল্যাপ ও সারাংশ
এই বইটির কোনো বিস্তারিত সারাংশ এখনো যুক্ত করা হয়নি।
বইয়ের বিস্তারিত বিবরণ ও স্পেসিফিকেশন
আইডিয়া প্রকাশন ক্যাটালগ| বইয়ের নাম | যুদ্ধ কেন |
|---|---|
| লেখক / রচয়িতা | আলবার্ট আইনস্টাইন, সিগমুন্ড ফ্রয়েড |
| অনুবাদ | মনির হোসেন |
| প্রকাশক / প্রকাশনী | আইডিয়া প্রকাশন |
| ক্যাটাগরি | অনুবাদ |
| সংস্করণ / মুদ্রণ | 1st Edition 2026 |
| পৃষ্ঠা সংখ্যা | ৪৮ পৃষ্ঠা |
| কাগজের ধরন | 80 GSM Off-white |
| বাঁধাই ও কভার | হার্ডকভার ও পেপারব্যাক উভয় সংস্করণ উপলব্ধ |
| স্টক স্ট্যাটাস | স্টকে আছে (In Stock) |
| ভাষা | Bengali |
| দেশ | বাংলাদেশ |
লেখক পরিচিতি
পাঠকদের মতামত ও পর্যালোচনা
প্রকৃত পাঠকদের রেটিং ও অভিজ্ঞতা
এখনো কোনো রিভিউ দেওয়া হয়নি
বইটি পড়ে প্রথম রিভিউটি আপনিই লিখুন!
আপনার অভিজ্ঞতা ও রিভিউ শেয়ার করুন
অতিথি হিসেবে রিভিউডেলিভারি ও চার্জ হিসাব
অর্ডার সংক্রান্ত যেকোনো সহায়তায়
আমাদের প্রতিনিধি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সক্রিয় রয়েছেন।
একসাথে কিনুন (Frequently Bought Together)
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
একই ক্যাটাগরির জনপ্রিয় বইসমূহ



