.
নিউরনের কাজ হচ্ছে শরীরের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বৈদ্যুতিক ও রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে তথ্য বা উদ্দীপনা আদান-প্রদান করা। এটি মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যকরী একক, যা চিন্তা করা, অনুভূতি অনুভব করা, এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করার মতো কাজগুলো পরিচালনা করে। আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং এর ভাষায় সেন্সর আরকি।
না, আমার গল্প আজ নিউরন নিয়ে না; বরং বিভিন্ন প্রাণীর দেহের নিউরণ এর ভুমিকা। মানবদেহে যে পরিমাণ নিউরণ আছে ডলফিনে তার দ্বিগুণ নিউরন বিদ্যমান। যার ফলে সে খুব সেনসিটিভ।
বলা হয়ে থাকে একদল মানুষকে আর্মির মত ট্রেনিং করতে যে সময় লাগে, একদল ডলফিনকে সে খেলা শেখাতে তার অর্ধেক সময় লাগে। অর্থাৎ তার দ্বিগুণ নিউরণ তাকে কোন কিছু শিখতে দারুন সাহায্য করে।
না, আজকের গল্প ডলফিন বা নিউরণ নিয়ে নয়। গল্পটা টোটেম নিয়ে। টোটেম হলো কোনো বিশেষ প্রাণী, উদ্ভিদ বা প্রাকৃতিক বস্তু যা কোনো পরিবার, গোষ্ঠী বা গোত্রের পবিত্র প্রতীক বা রক্ষাকর্তা আত্মা হিসেবে মানা হয়। এটি আদিম সমাজে মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যকার সম্পর্ক এবং নিজেদের পূর্বপুরুষের পরিচয় প্রকাশ করে।
একজন মানুষের টোটেম যদি ডলফিন হয় তবে সে মানুষটি কেমন হবে? ডলফিন-টোটেমের মানুষের মধ্যে প্রচলিতভাবে যে বৈশিষ্ট্যগুলো ধরা হয়:
🐬 বুদ্ধিমান ও দ্রুত শেখে — নতুন পরিস্থিতি খুব দ্রুত বুঝতে পারে।
❤️ মানুষের প্রতি আন্তরিক — সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় এবং আপনজনের পাশে থাকতে চায়।
😊 প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি — আনন্দ, মজা ও সামাজিকতা পছন্দ করে।
🗣️ ভালো যোগাযোগকারী — কথা দিয়ে মানুষকে সহজে আকৃষ্ট করতে পারে।
🌊 স্বাধীনচেতা — অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বা বাঁধাধরা নিয়ম পছন্দ করে না।
💭 অনুভূতিশীল — বাইরে থেকে হালকা-ফুলকা মনে হলেও ভেতরে আবেগ বেশ গভীর হতে পারে।
🤝 সহযোগী ও বিশ্বস্ত — নিজের কাছের মানুষদের রক্ষা করতে ও সাহায্য করতে আগ্রহী।
⚠️ দুর্বল দিক হিসেবে কখনো অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতা, অস্থিরতা, সহজে বিরক্ত হওয়া বা একসঙ্গে অনেক কিছু করতে গিয়ে মনোযোগ হারানোর কথা বলা হয়।
আজকের গল্পটা ডলফিন টোটেম নিয়ে লিখেছি। আরেকদিন অন্য কোন টোটেম নিয়ে গল্প হবে। আপনি আপনার চরিত্র চিন্তা বংশ অনুভুতি ইত্যাদি বিবেচনা করে করে বলুন তো, আপনার টোটেম কি?
রেজা হক/ বাংলাবাজার / ১৭-০৮-২০২৬ খ্রি:।










পাঠক মন্তব্য ও পর্যালোচনা০টি
আপনার মূল্যবান মতামত বা রিভিউ দিন
অতিথি হিসেবে মন্তব্য