গল্প : ব্রেক আপ
রীনা, তোমরা বুঝতে পারছ না আমার কথা -
আমি যেটা বলতে চাইছি বা বোঝাতে চাইছি, তোমরা হয় কেউ বুঝতে পারছ না, অথবা বুঝতে চাইছ না -
এরপর সব কিছু ছেড়ে দিয়ে চলে গেলে, আমার কিছু করার থাকবে না। এখন ডিসিশনটা ঋতুর। এর থেকে আমি আর বেশি কিছু বলতে পারব না। ওকে সেটা ভালো করে বুঝিয়ে দিও।
হঠাৎ করে যেন আকাশ ভেঙে পড়ল মাথায়। হ্যাঁ, আকাশ ভেঙে পড়ার মতোই তো বিষয়টা। ব্রেকআপ হওয়ার মতো তো এমন কিছুই হয়নি। সমস্যা মানুষের জীবনে আসতেই পারে। এবং প্রত্যেকটা সমস্যার অবশ্যই সমাধান থাকবে। আপাতত সমস্যাটা জটিল মনে হলে, মানিয়েও নিতে হবে ছন্দে ফিরে আসতে স্বাভাবিক ঘটনা ভেবে। বিদেশে যদি যেতেই হয়, তাবলে সম্পর্কে একেবারে ব্রেকআপ করে দিয়ে যেতে হবে? এটা কেন মনে হল? কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না ঋতুপর্ণা। রীনা এসে খবরটা দিয়ে গেল। রীনা, অভিপ্রায় আর ও একই কলেজে পড়ত। রীনা আর ঋতু যখন গ্র্যাজুয়েশন করছে, অভিপ্রায় তখন মাস্টার্সে। এখন ঋতু, রীনার সাথে নার্সিং ট্রেনিং করছে দেড় বছর হল। অভিপ্রায় ওর মা বাবার সাথে কথা বলে ঠিক করেছে জাপানে যাবে। এদেশে নাকি সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভবিষ্যত নেই।
সেটা নাহয় বুঝলাম। বিদেশে যেতে চায় যাক। তারমানে তো এই নয় যে বাবা মায়ের সাথে, গার্লফ্রেন্ডের সাথে সব সম্পর্ক চুকিয়ে দিয়ে বিদেশে পাড়ি দিতে হবে?
যেখানে ইসরোর বিজ্ঞানীরা স্বল্প ব্যয়ে চাঁদের কঠিনতম স্থানে পদচারণা করে সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিল, সেখানে এরকম যুক্তি মানায়? একমাত্র অর্ধ শিক্ষিতদের মুখেই এরকম কথা শোভা পায়। তাছাড়া এই কথাগুলো তো অভিপ্রায় তাকে নিজে মুখে বলতে পারতো! কথাগুলো তো তাদের একেবারে ব্যক্তিগত! যেখানে ওদের দুজনকে জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্ন! ঠোঁট-ভ্রু কুঁচকে খাবারের থালা মুখের সামনে রেখে আকাশ পাতাল ভাবতে থাকে ঋতুপর্ণা। মাথার মধ্যে যেন হঠাৎ করে কেউ গনগনে কয়লার আগুন ঠেসে ভরে দিয়েছে।
তিন মাস হল অভিপ্রায়ের সাথে রীনার ব্রেকআপ হয়েছে। জীবনকে খুব কাছের থেকে দেখেছে রীনা। অনেক ঝড় ঝঞ্জার পর সে আজ এখানে। না, আর্থিক দিক থেকে অস্বচ্ছলতা কোন দিনই তাকে গ্রাস করতে পারেনি। গ্রাস করেছিল একমাত্র দুরত্ব। একটা রিমোট এরিয়া থেকে অল্পবয়সী ওইটুকু একটা মেয়েমানুষ কিভাবে সমাজ ও প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে, অল্প বয়সে অজানা জায়গায় পেয়িং গেস্ট থেকে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে গেছে, তা একমাত্র তার অন্তরাত্মা জানে। যার চরম অবস্থা এখনো প্রবহমান।
ভীষন ভালো লাগতো অভিপ্রায়কে। ভালো লাগতো কি! এখনও ভালো বাসে সে তাকে। কিন্তু অভিপ্রায়? সে কি পারল তার মর্যাদা দিতে?









পাঠক মন্তব্য ও পর্যালোচনা০টি
আপনার মূল্যবান মতামত বা রিভিউ দিন
অতিথি হিসেবে মন্তব্য